মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

পেক্ষাপট

কুমিল্লা অঞ্চল প্রাচীন  সমতটের অধীনে এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। নবম  শতাব্দিতে এ জেলা  হরিকেল রাজাদের অধীনে আসে। এ শহরের  ৫কি:মি: পশ্চিম-দক্ষিণে লালমাই ময়নামতিতে দেব বংশ(অষ্টম শতাব্দী) ও চন্দ্র বংশের (দশম ও একাদশ শতাব্দীর  মাঝামাঝি ) রাজত্ব ছিল।এ জেলা ১৭৬৫ সালে প্রথম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে আসে। ১৭৯০ সালে এিপুরা জেলা নামে এই জেলার সৃষ্টি। ১৯৬০সালে কুমিল্লা জেলার নামকরণ হয়। ১৯৮৪ সালে চাঁদপুর ও ব্রাক্ষ্রণবাড়ীয়া মহকুমা দুইটি জেলায়  উন্নীত হয় । কুমিল্লা পৌরসভা দেশের প্রাচীনতম পৌরসভাসমূহের মধ্যে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পৌরসভা। ১৮৬৪ সালে ৩০ শে নভেম্বর কুমিল্লা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা পৌরসভার আয়তন ১৭.৯৪ বর্গ কিঃমিঃ। এতে সাধারণ আসনে ১৮টি ওয়ার্ড ছিল ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ছিল-০৬টি। কুমিল্লা পৌরসভার সীমানা ঘেষে ২০০৩সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভা গঠিত হয়।  সদর দক্ষিণ পৌরসভার আয়তন ৩৫.১০ বর্গ কিঃমিঃ। এতে সাধারণ আসনে ০৯টি ওয়ার্ড ছিল ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ছিল-০৩টি। প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো কুমিল্লা মিউনিসিপালিটি প্রতিষ্ঠার ১০৯ বছর পর স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালের ২২ মার্চ কুমিল্লা পৌরসভা নামকরণের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। ১৯৭৩ সালে জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব আবদুর রহিম এরপর জনাব মঈনুদ্দিন আহমেদ, জনাব মীর আফতাব উদ্দিন আহমেদ ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর জনাব এম. এ. আউয়াল কুমিল্লা পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। কুমিল্লা পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব মোঃ মনিরুল হক সাক্কু।  ১০জুলাই ২০১১ খ্রিস্টাব্দ কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভা বিলুপ্ত করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এর প্রথম প্রশাসক নিযুক্ত হন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব জনাব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ।

  স্মৃতিস্তম্ভ ও প্রাচীন নিদের্শনাঃ প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ কুমিল্লা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে লালমাই ময়নামতি পাহাড় অবস্থিত  এখানে ছিল সমৃদ্ধ সভ্যতা।এখানে রয়েছে শালবন বিহার,কুটিলা মুড়া,চারন্দ্র মুড়া,রুপবান মুড়া,ইটাখোলা মুড়া, সতের রত্ন মুড়া, রানীর  বাংলা পাহাড়,আনন্দ রাজার প্রাসাদ, ভোজরাজার প্রাসাদ, চন্ডীমুড়া। প্রাচীন   নির্দশন হিসেবে এখানে কয়েকটি দীঘি রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বধ্যভূমি: লাকসাম, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, বেলতলি, হোমনা, রসুলপুর। গণকবর :বোতিয়রা, মুদাফফরগঞ্জ, নগরীপাড়া, ক্যন্টনমেন্ট, কৃষ্ণপুর ধনঞ্জয়, দিলাবাদ, লাকসাম বিড়ি  ফেক্টরি গণকবর।  কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ স্মৃতিস্তম্ভ, বোতিয়ারা স্মৃতিস্তম্ভ, পুলিশ লাইন স্মৃতিস্তম্ভ, ক্যান্টনমেন্ট স্মৃতিস্তম্ভ, লাকসাম স্মৃতিস্তম্ভ,  পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্মৃতিসৌধ, হাড়াতলী স্মৃতিস্তম্ব।  বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানি (&উনবিংশ শতাব্দীর  খ্যাতিমান সাহিত্যিক  শিক্ষা ও সমাজসেবক ) মহাস্থবির  শীলভদ্র (নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ), শচীন কুমার দেব বর্মণ (প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী), আশরাফউদ্দীন আহমদ চৌধুরী (রাজনীতিবিদ) , অধ্যাপক মোজাফফর আহম্মদ(বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ), মেজর এম এ গণি (ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা )।